সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>নরসিংদীতে হতদরিদ্র এক কৃষকের স্ত্রীকে মেরে দাঁত ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে রিপন নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে । এছাড়া ওই পরিবারের সদস্যদের মারধর করে জমির ধান কেটে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, তারা আমার দাঁত ভেঙে দিয়েছে। বাড়িতে আসলে ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে যেতে যায়। এখন তাদের জোর বেশি আমাদের ফসলি জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা।
মামলা করার জেরে সম্প্রতি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বড়চাপা নামাপাড়া এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৬ বছর আগে দরিদ্র কৃষক রহিজ উদ্দিনের বড় মেয়েকে একই এলাকার মৃত নুরুল হক নুরুর ছেলে নাজমুল ধর্ষণ চেষ্টা চালান। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে বিবাদী পক্ষ মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। বাড়িতে হামলা করে ওই সদস্য এক নারীর দাঁত ভেঙে দেয়।
এ সময় ওই ছোট মেয়ে আখি আক্তার বলেন, প্রায় ৬ বছর আগে তার বড় বোনকে নাজমুল হোসেন এসে ধর্ষণ চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করে আমরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এরপর গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি নেতা রিপন, তার ভাই শাজাহান ও নাজমুল দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে পুনরায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এরপর গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রিপন দলবল নিয়ে তাদের জমির পাকা ধান কেটে নেয়া শুরু করে।
বাম থেকে কৃষকের স্ত্রী, কৃষক রহিজ উদ্দিন
ভুক্তভোগি কৃষক রহিজ উদ্দিন বলেন, আমি ধান কাটার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও মনোহরদী থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাধা দেই। পরে পুলিশ চলে গেলে একই এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ লাল মিয়ার ছেলে কাননের সহযোগিতায় বিএনপি নেতা রিপন পুনরায় তাদের মারধর করে জমির ধান কেটে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, ধান কাটার শ্রমিকরা বলেন, আমাদের মজুরির বিনিময় আনছে আমরা তো জানি না জমি কার। পুলিশ এসে বাধা দিয়েছে, তারপর পুলিশ চলে গেলে আবার নির্দেশ দেয় ধান বাড়িতে পৌঁছে দিতে।
মনোহরদী থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিএনপি নেতা রিপনের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করায় সে দরিদ্র কৃষকের জমির ধান জোর করে কেটে নিয়ে যায়। আমরা বাধা দিলেও পুনরায় জমির ধান কেটে নিয়ে যায় তারা।